কুষ্টিয়ায় নির্মাণাধীন দুর্গা প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। কুষ্টিয়া পৌর ২১ নং ওয়ার্ডের লাহিনী কর্মকার পাড়ায় অবস্থিত লাহিনী সার্বজনীন পূজা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে এলাকার এক যুবক সর্বপ্রথম ঘটনাটি দেখে বিষয়টি মন্দির কমিটিকে অবহিত করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন্ন দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া শহরের ২১ নং ওয়ার্ডের লাহিনী কর্মকার পাড়ায় লাহিনী সার্বজনীন পূজা মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল।
আরও পড়ুনঃ খোকসা উপজেলাবাসী মনে করেন আল মাছুম মুর্শেদ শান্তই নৌকার দক্ষ মাঝি
বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে এলাকার রাজ্জাক আলীর ছেলে সুজন আলী (২৭) সর্বপ্রথম ঘটনাটি দেখে পূজা মন্দির কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করে। এরপর মন্দির কমিটির লোকজন এসে দেখতে পান মন্দিরে থাকা নির্মাণাধীন সবগুলো প্রতিমা ভাংচুর করা।

দূর্গা প্রতিমার মাথা ও হাত, সিংহের মুখ, লক্ষী প্রতিমার ঘাড়, স্বরস্বতী প্রতিমার মাথা, গনেশের প্রতিমার ঘাড়, কার্ত্তিক প্রতিমার ঘাড় এবং অসুরের ঘাড় ভাংগা রয়েছে।
তবে কখন এগুলো ভাঙ্গা হয়েছে বা কে ভেঙেছে তা কেউ বলতে পারেনি। সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মন্দিরের সেবায়েত গৌরি বালা জানান, খবর পেয়ে সাড়ে ৪ টার দিকে মন্দিরে যেয়ে দেখি সব ঠাকুরের মাথা কাটা। তখনি আমি চিৎকার দিয়ে উঠি। তখন আশে পাশের মানুষজন ছুটে আসে। সবার উদ্যোগে পাঁচ বছর আগ থেকে মন্দিরে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারও তার প্রস্তুতি চলছিল।
লাহিনী সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি ধনঞ্জয় নন্দী বলেন, কে বা কারা প্রতিমা ভাঙছে সেটা আমরা দেখি নাই। নিজেরাই সারারাত মন্দির পাহারা দেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা অবস্থায় জানতে পেরেছি ঘটনা। এ বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়রা জানায়, হিন্দু মুসলমান সকল সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় বিগত ৫ বছর ধরে মন্দিরটিতে শান্তিপূর্ন ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনও পূজাতে চাঁদা দেয়। তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব পাল বলেন, আমি মনে করি এই এলাকার মানুষ সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। তা না হলে এমন দুর্বৃত্তায়নের মতো ঘটনার সমবেদনা জানানোর জন্য এতো মানুষ ঘটনাস্থলে আসতো না। তিনি বলেন, গুটি কয়েক মানুষ যারা সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চাই। যারা দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপণ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাই, তারাই প্রতি বছর এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি অবগত করেন।