বর্তমানে প্রচলিত করোনা ভাইরাসের টিকাগুলো অমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিতদেরকেও গুরুতর অসুস্থ হবার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে বলে দাবি করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)
এ ছাড়া টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার বায়োএনটেক কোম্পানিও বলতেছে, তাদের কোভিড-১৯ টিকার ৩টি ডোজ অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবেলা করতে সক্ষম বলে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে।
এর আগে কার প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষায় আভাস পাওয়া গিয়েছিল যে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম চিহ্নিত এই অমিক্রন নামের নতুন ভ্যারিয়েন্টটি ফাইজারের টিকাকে আংশিকভাবে এড়িয়ে যেতে পারে।
গবেষকরা এ নিয়ে বলেন, টিকা থেকে সৃষ্ট এ্যান্টিবডি অমিক্রনকে যতটা নিষ্ক্রিয় করতে পারে – তার মাত্রায় ‘খুব বড় পতন’ দেখা গেছে।
কিন্তু গত মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কিত পরিচালক ড. মাইক রায়ান বলেছেন, টিকাকে ফাঁকি দেবার ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাসের অন্য ভ্যারিয়েন্টগুলোর চেয়ে অমিক্রন বেশি দক্ষ – এমন কোন চিহ্ন এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
এএফপি বার্তা সংস্থাকে ড. রায়ান জানান, করোনা ভাইরাসে গুরুতর অসুস্থতা ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ঠেকানোর ক্ষেত্রে ‘আমাদের হাতে অত্যন্ত কার্যকর টিকা আছে যা এখন পর্যন্ত সকল ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর বলে ল্যাবে প্রমাণিত হয়েছে’।
আরও পড়ুন
বুয়েট ছাত্র হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের যাবজ্জীবন
তিনি আরও বলেন, অমিক্রনের ক্ষেত্রেও যে তাই হবে না এমন মনে করার আপাতত কোন কারণ নেই।
ড. রায়ান বলেন, প্রাথমিক ডাটাতে আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে ডেল্টা বা অন্যান ধরনের তুলনায় অমিক্রন যে মানুষকে বেশি অসুস্থ করে তা কিন্তু নয়।
‘অসুস্থতা যে আগের থেকে অপেক্ষাকৃত অনেক কম সেই ইঙ্গিতই মিলছে’ – বলেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকায় করা এই নতুন জরিপটি এখনো অন্য সব বিজ্ঞানীদের দ্বারা যাচাই করানো হয়নি। তবে এতে দেখা যাচ্ছে যে করোনা ভাইরাসের মূল ধরনটির বিরুদ্ধে ফাইজার-বায়োএনটেক টিকার ফলে মানব দেহে যে পরিমাণ এ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছিল, অমিক্রনের ক্ষেত্রে তা ৪০ গুণ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এ গবেষণার নেতৃত্বদানকারী আফ্রিকা হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজিস্ট অধ্যপক এ্যালেক্স সিগাল বলেন, টিকাকে ফাঁকি দেবার যে ক্ষমতা অমিক্রনের আছে তা অসম্পূর্ণ কথা।
‘ফাইজারের টিকার ৩টি ডোজ অমিক্রন ঠেকাতে সক্ষম’
সর্বশেষ এক খবরে ফাইজার বায়োএনটেক বলেছে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে তাদের টিকার ৩টি ডোজ অমিক্রন ভ্যরিয়েন্ট মোকাবেলা করতে সব দিক থেকেই সক্ষম।
টিকা প্রস্তুতকারক কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী আলবার্ট বোরলা জানান, তাদের ২ ডোজ টিকা অমিক্রন ঠেকাতে অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর – কিন্তু তৃতীয় বুস্টার ডোজ মানবদেহে কোভিড বা করোনা-প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াতে সক্ষম।
অবশ্য এই ফলাফল প্রাথমিক ভাবে পাওয়া গেছে এবং তারা আরো তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফাইজার আরো বলছে, তারা শুধু অমিক্রন রোধের জন্য ১টি আলাদা টিকা তৈরি করছে এবং তা আগামী ১০০ দিনের মধ্যে সরবরাহের জন্য তৈরি হবে।
বিজ্ঞানীরা এও বিশ্বাস করেন যে, যারা আগে সংক্রমিত হয়েছেন এবং পরে টিকা বা বুস্টার নিয়েছেন তারা হয়তো অমিক্রনে গুরুতর অসুস্থতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাবেন।
মডার্না, জনসন এ্যান্ড জনসন বা অন্যান্য টিকাগুলো অমিক্রনের বিরুদ্ধে কত কার্যকর – তা নিয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় নি।
বেশি সংক্রামক, কিন্তু কম মারাত্মক?
করোনা ভাইরাসের বর্তমান ডেল্টা ধরনটির চেয়ে অমিক্রন আরও বেশি সংক্রামক হতে পারে – এমন আভাস পাওয়া গেলেও এটির গুরুতর অসুস্থতা সৃষ্টির ক্ষমতা কতটা, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
অমিক্রন এখন বিশ্বের ৫৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। সাপ্তাহিক রিপোর্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, এটি যত বেশি ছড়াবে, হাসপাতালে সেবা নিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা তত বেশি বাড়বে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক মাইকেল রায়ান আরও বলেন, প্রাথমিক ইঙ্গিত থেকে মনে হচ্ছে অমিক্রন অনেক বেশি দ্রুত ছড়ায় অন্য ভ্যারিয়েন্ট থেকে – তবে সম্ভবত এটি আগের ধরনগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. এ্যান্টনি ফাউচিও বলেন, প্রাথমিক আভাসে যা মনে হচ্ছে অমিক্রন হয়তো বেশি সংক্রামক হলেও কম মারাত্মক হতে পারে।