spot_img
মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
29 C
Bangladesh
মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
spot_img
আরও
    DinBartaখেলাফুটবলদোষটা বার্সেলোনারই, মেসির নয়!
    spot_imgspot_img

    দোষটা বার্সেলোনারই, মেসির নয়!

    এক দিনে অনেক কিছু বদলে গেল!

    ৫ আগস্ট জানা গেল, ইবিজা থেকে অবকাশযাপন করে বাবা হোর্হেকে নিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে আবার চুক্তি নবায়ন করবেন লিওনেল মেসি। রাত হতে না হতেই বোমা ফাটাল স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা। জানাল, পরিস্থিতি বদলে গেছে। বার্সা থেকে মেসির বিদায় যেকোন সময়। সে খবর হজম হতে না হতেই মেসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানিয়ে দিল বার্সেলোনা!

    বার্সেলোনা ক্লাব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর কেঁদে ফেলেন লিওনেল মেসি
    বার্সেলোনা ক্লাব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর কেঁদে ফেলেন লিওনেল মেসি

    কেন এমন হলো, সে আলোচনার আগে একটা পুরোনো গল্প শোনা যাক।

    ২০১৭ সালের দিকে, মন্তে কার্লোর বিলাসবহুল দামি হোটেলের এক রুমে ঢোকার আগে দামটা ঠিক করে নিয়েছিলেন বার্সেলোনার দুই কর্মকর্তা। আট কোটি ইউরো। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কাছ থেকে উসমান দেম্বেলেকে নিতে এর চেয়ে বেশি কিছু দিতে রাজি নন তাঁরা। রুমে বসে থাকা জার্মানরা উল্টো চমকে দিলেন। সরাসরি বলে দিলেন, তাদের একটু পরই উড়াল দিতে হবে, দর-কষাকষির সময় নেই। একদাম ১৬ কোটি ইউরো। রাজি থাকলে ভালো, না থাকলে নেই!

    বার্সেলোনার কর্মকর্তাদের সব চিন্তা-ভাবনা মাঠে মারা গেল। নিজেরা চাল দেওয়ার আগে প্রতিপক্ষ চাল দিয়ে বসেছে! নেইমারকে হারানোর পর সমর্থকদের শান্ত করতে তখন বেপরোয়া বার্সেলোনা। রুম থেকে যখন বের হলেন ক্লাব সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তোমেউ, দেম্বেলের জন্য এককালীন ১০ কোটি ৫০ লাখ ইউরো দিতে রাজি হয়ে গেছেন। শর্ত সাপেক্ষে আরও চার কোটি ইউরো দিতেও আপত্তি নেই তাঁর।

    কদিন পর ফিলিপ কুতিনিওকে নিতে গিয়েও একই কাহিনি। প্রথমে যে খেলোয়াড়কে পেতে ৭ কোটি ৮০ লাখ ইউরো দিতে চেয়েছিল বার্সেলোনা, তাঁকে পেতে এককালীন ১২ কোটি ইউরোর সঙ্গে আরও ৪ কোটি ইউরো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে বার্সেলোনা। দেড় বছর পর দলে মেসি থাকা সত্ত্বেও একই পজিশনে ও একই ধরনে খেলতে পছন্দ করা আঁতোয়ান গ্রিজমানকে নিয়েছে তারা। অপ্রয়োজনীয় এই দলবদলেও ১২ কোটি ইউরো খরচ করার আগে দুবার ভাবেননি বার্তোমেউ।

    তাঁদের সবার জন্য সব মিলিয়ে ৪০ কোটি ইউরোর বেশি খরচ করেছে বার্সেলোনা। তাঁদের বেতনের জন্য গত চার বছরে তহবিল থেকে খরচ কম করেনি বার্সেলোনা। সেই ক্লাবই কিনা মেসিকে ধরে রাখতে পারেনি আর্থিক কারণে।

    যাঁকে দলে রাখার জন্য চেষ্টা হওয়া উচিত সর্বোচ্চ, তাঁকে ধরে রাখার ক্ষেত্রেই এত আগে হার মেনে নিল বার্সেলোনা? মেসির বিদায়ের কারণ হিসেবে বার্সা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা আগেই স্প্যানিশ লিগের বেতনসীমা–সংক্রান্ত নীতিকে দুষেছেন। স্প্যানিশ লিগে ক্লাবের বেতন আয়ের ৭০ শতাংশ হতে হয়, মেসিকে ছাড়াই বার্সার ক্ষেত্রে যেটা ৯৫ শতাংশ হয়ে গিয়েছিল। বার্তোমেউর বোর্ড দলের সব খেলোয়ারকেই যেভাবে পেরেছেন উচ্চ বেতনে চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন। করোনাকালে ক্লাবের আয় এত দ্রুত কমেছে যে আগেই বিপৎসীমার ওপরে থাকা বেতনের বিল নিজেদের মধ্যে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি বার্সেলোনার পক্ষে।

    এ অবস্থায় করসহ মেসির ১০ কোটি ইউরোর বেশি বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না বার্সেলোনার পক্ষে। মেসির বেতন অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরও নয়। বেশি বেতনভোগী কিছু খেলোয়াড় সরিয়ে ৭০ শতাংশে নামিয়ে আনা ভয়ংকর কঠিন হলেও অসম্ভব ছিল না। সেটা না পারলেও মেসিকে ধরে রাখার জন্য বার্সা যে অন্তত চেষ্টা করেছে, এটা বোঝা যেত। গ্রিজমান, পিয়ানিচ, দেম্বেলে, কুতিনিও, লংলে, উমতিতি ও রবার্তো বেশি বেতন নিয়েও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিচ্ছেন না, এমন খেলোয়াড় কম নেই দলটিতে। কয়েকজনকে অন্য ক্লাবে পাঠানোর মরিয়া চেষ্টাটা বার্সেলোনা দলবদলের বাকি ২৫ দিনে করার চেষ্টা করতেই পারত।

    পিএসজির অনুশীলনে মেসি
    পিএসজির অনুশীলনে মেসি

    বার্সেলোনার সভাপতি নির্বাচনে নামার সময় লাপোর্তার ইশতেহারেই ছিল, যেকোনো মূল্যে মেসিকে দলে রাখা। বলা যায় এই প্রতিশ্রুতিই লাপোর্তাকে আবারও বার্সার গদিতে বসিয়েছে। সভাপতি হওয়ার পরও মিডিয়ার সামনে একই বুলি বলেছেন। ওদিকে স্প্যানিশ লিগের সভাপতি হাভিয়ের তেবাস সব সময় এই বার্তাই দিয়েছেন, মেসির মতো খেলোয়াড় থাকলে লিগেরই লাভ, তবে সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যতটা না লিগের, তার চেয়ে বেশি বার্সেলোনার। ইশারা পরিষ্কার, মেসির বার্সেলোনায় থাকা নিশ্চিত করতে বাড়তি কোনো সাহায্য করবে না লিগ।

    লাপোর্তা নিজে আইনজীবী, রাজনীতিও করেছেন। ছিলেন কাতালুনিয়া সংসদের সদস্য। কথার পিঠে কথার জাদুতে মুগ্ধ করতে পারেন মানুষকে। তিনি বা তাঁর কোনো আইনজীবী মেসির চুক্তিসংক্রান্ত এ জটিলতা যে এমন রূপ ধারণ করবে, তা আগে ধারনা করতে পারেননি। ৫ আগস্ট বুঝেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মেসিকে বিদায় দেওয়ার, এটা মেনে নেওয়া কঠিন। এটা ঠিক, লাপোর্তা বার্সেলোনার আর্থিক দুর্দশার কথা যতটা জানতেন, ভেতরে ভেতরে অবস্থা আরও বেশ জটিল ছিল। নির্বাচিত হয়ে ক্লাবের আর্থিক অবস্থা দেখে তাই স্বীকার করে নিয়েছেন, এতটা খারাপ অবস্থা তাঁর চিন্তায় ছিল না।

    নেইমারকে হারানোর পর মেসিকে হারাল বার্সেলোনা
    নেইমারকে হারানোর পর মেসিকে হারাল বার্সেলোনা

    জুন মাস শেষ হওয়ার পর ক্লাবের আর্থিক অবস্থার পরিষ্কার চিত্র পেয়েছেন লাপোর্তা। আর সেক্ষেত্রে তাঁর নিশ্চিতভাবেই জানা ছিল, লা লিগা নিয়ম ভাঙতে না চাইলে মেসিকে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই গত কিছুদিন মেসিকে ধরে রাখার ফাঁকা বুলিই শুধু শুনিয়েছেন লাপোর্তা। ভুলে গেলে চলবে না, অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি কার্লেস তুসকেতস কিন্তু সরাসরিই বলেছিলেন, আর্থিক জটিলতা কাটাতে মেসিকে ছাড়তেই হবে বার্সার। কয়েক মাস পর তুসকেতসের কথাই আজ বাস্তব, লাপোর্তার ফাঁকা বুলি নয়।

    বেতনের বিল কমানো ছাড়াও মেসিকে ধরে রাখা যেত, যদি বার্সা সিভিসি চুক্তিতে সম্মতি দিত। লিগের সঙ্গে বিনিয়োগ সংস্থা সিভিসির চুক্তি হয়েছে, যার কারণে লিগস্বত্বের ১০ শতাংশ ৫০ বছরের জন্য কিনে নেবে সিভিসি। বিনিময়ে লা লিগাকে দেবে ৩০ কোটি ইউরো। বলা হচ্ছিল, এ টাকায় বেতনসীমা বাড়ানো যাবে, মেসি থাকতে পারবেন বার্সায়। কিন্তু লাপোর্তার মতে, এ চুক্তিতে সম্মতি দেওয়ার অর্থ বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখা। লাপোর্তার সঙ্গে তেবাসের ঝামেলা এ নিয়েই।

    spot_imgspot_img

    ফলো করুন-

    সম্পর্কিত বার্তা

    জনপ্রিয় বার্তা

    সর্বশেষ বার্তা