spot_img
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
22 C
Bangladesh
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
spot_img
আরও
    DinBartaবিশেষ বার্তাফেরাউন কে?  ফেরাউনের নাম নিয়ে যত বিভ্রান্তি
    spot_imgspot_img

    ফেরাউন কে?  ফেরাউনের নাম নিয়ে যত বিভ্রান্তি

    পবিত্র কোরআনে ৭৪ বার ‘ফেরাউন’ শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তার নিষ্ঠুর অত্যাচার-নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে।

    ফেরাউনের নাম শোনোনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আমাদের দেশে কেউ কারো প্রতি জুলম করলে নির্যাতনকারীকে ‘ফেরাউন’র সঙ্গে তুলনা করা হয়। কারো ঔদ্ধত্য প্রকাশ পেলে তাকেও ফেরাউনের কথা বলে সংশোধন করার চেষ্টা করা হয়।

    ফেরাউন কে?

    ফেরআউন, ফেরাউন বা ফিরআউন- এসব একক কোনো ব্যক্তির নাম নয়। যুগ যুগ ধরে প্রাচীন মিসরকে রাজত্ব করা শাসকদের নাম এসব। তারা ‘ফারাও’ হিসেবেও পরিচিত। প্রাচীন মিসরীয় বিভিন্ন সভ্যতায় তাদের স্থিতি ছিল।

    বনি ইসরাইলিদের যুগের ধর্ম যাজক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং সম্ভ্রান্ত পরিবারের কর্তা ব্যক্তিদের উপাধি। পরবর্তীতে বনি ইসরাইলিরা যখন রাজ্য শাসনের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তখন যারা ঐ অঞ্চলের রাজা হতো তাদেরকে ফেরাউন বলে সম্বোধন করা হতো।

    ফেরাউন বা ফারাও দের নির্মিত পিরামিড, মিশর
    ফেরাউন বা ফারাও দের নির্মিত পিরামিড, মিশর | ছবিঃ সংগৃহীত

    সংক্ষেপে ফেরাউন দের পরিচয় (বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত আছে, তার মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ মদবাদ বর্ণনা করা হলো):

    ১.১] আমালেকা জাতির রাজার খেতাব ছিল ফেরাউন।

    ১.২] মিশরের অধিবাসী কিবতীদের রাজার খেতাবও ছিল ফেরাউন।

    ১.৩] হজরত মুসা আলাইহিস সালামের সময়ের (কিবতীদের শাসক) ফিরাউনের নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে

    আরও পড়ুনঃ মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসে ৬৫% লেনদেন হওয়া সত্ত্বেও বিকাশ এখনো লোকশান করছে কেন?

    ২.১] সেনান ইবনে আল-আশহাল ইবনে আলওয়ান ইবনে আল আমিদ ইবনে আমলাক হজরত ইব্রাহীম (আ.) এর যুগে ছিল ফেরাউনদের প্রথম বাদশাহ।

    ২.২] রাইয়্যান ইবনে ওয়ালিদ হজরত ইউসুফ (আ.) এর সময়ে ছিল দ্বিতীয় ফেরাউন।

    ২.৩] আল ওয়ালিদ ইবনে মোছয়েব হজরত মুসা (আ.) এর আমলে ছিল তৃতীয় ফেরাউন।

    আরও পড়ুনঃ টেলিটকের ইন্টারনেট ডাটার মেয়াদ আনলিমিটেড

    ৩.১] হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস ও পিথম নগরী নির্মাণ করেন। সে-ই হচ্ছেন দ্বিতীয় রামেসিস।

    ৩.২] কেউ কেউ বলেন হজরত মুসা আলাইহিস সালাম মাদিয়ানে অবস্থানকালে ক্ষমতাসীন ফেরাউনের (অর্থাৎ দ্বিতীয় রামেসিসের) মৃত্যু ঘটে এবং হযরত মুসার জীবনের পরবর্তী ঘটনাবলী সংঘটিত হয় দ্বিতীয় রামেসিসের উত্তরাধিকারী মারনেপতাহর রাজত্বকালে।

    ৩.৩] কেউ কেউ বলেন, হজরত মুসা আলাইহিস সালামের যুগের ফেরাউনের নাম ছিল ওলীদ ইবনে মাসআব ইবনে রাইয়ান। তার বয়স হয়েছিল চারশত বছরেরও অধিক। হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের যুগের ফেরাউনের নাম ছিল রাইয়ান। এ দুই ফেরাউনের মধ্যে ৪০০ বছর সময়ের ব্যবধান ছিল।

    আরও পড়ুনঃ উইন্ডোজ ১১ এর বৈশিষ্ট্য

    সেনান, রাইয়্যান এবং আল ওয়ালিদ মিশরের এ তিন ফেরাউন তিন নবীর যুগে বাদশাহ ছিল। হজরত ইব্রাহীম (আ.) ও হজরত মুসা (আ.) এর আলোচনায় কোরআনে যে ফেরাউনের অত্যাচার, নির্যাতনে আল্লাহর গজব-আজাবে ধ্বংস হওয়ার কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তারা ইব্রাহীম (আ.) এর যুগের সেনান ও হজরত মুসা (আ.) এর সময়ের আল ওয়ালিদ নামের দুই ফেরাউন।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ফেরাউন নিয়ে বলেন

    ‘আর বনী-ইসরাঈলকে আমি নদী পার করিয়ে দিয়েছি। তারপর ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী দুরাচারিতা ও বাড়াবাড়ির উদ্দেশে তাদের পিছু নিয়েছে। এমনকি যখন ডুবতে শুরু করলো, তখন বলল- এবার বিশ্বাস করে নিচ্ছি যে, বনী-ইসরাইল যে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে, তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই; বস্তুত আমিও একজন মুসলিম।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৯০)

    ইতিহাসে যারা ফেরাউন নামে প্রসিদ্ধ

    ১. ফেরাউন নামধারী ব্যক্তি ইতিহাসে অনেকজন রয়েছে। ইহুদি ঐতিহাসিক জোসেফের মতে আহমস হলো মিসরের প্রধান ফেরাউন। তার এই ধরনের দাবির উদ্দেশ্য হলো- মিসরে ইহুদিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। পাশাপাশি এই ব্ক্তব্যও তুলে ধারা যে, ইসরাইলিরা ছিল মিসরের প্রাচীন শাসক। (ফারাও, জোশুয়া জে মার্ক; ০২-০৯-২০০৯;) কিন্তু তার দাবিকৃত তথ্যটি ভুল। কারণ, আহমস ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় মিসরের শাসক। মিসরীরা তখন ডেল্টা নদীর পূর্বে বাস করতো। সে সূত্রে মুসা (আ.)-এর মা কীভাবে তার সঙ্গে মিলিত হবেন। অথচ এমনটা হলে, দূরত্ব হওয়ার কথা বহু দীর্ঘ। ফলে নিয়মিত মুসা (আ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ তার পক্ষে সম্ভব নয়।

    আরও পড়ুনঃ রাস্তা যুক্তের সুযোগ দিল গুগল ম্যাপ

    ২. পিরামিডের কারণেও তারা বিখ্যাত। প্রগৈতিহাস সময়কালে ফারাও বা ফেরআউনরা এসব নির্মাণ করেছিল। তবে আমাদের কাছে ফেরাউন বিখ্যাত তার ঔদ্ধত্য, জিঘাংসা, হঠকারিতা, পাষণ্ডতা ও সীমালঙ্ঘন এবং কুফুরি ও আল্লাহ বিরোধীতার কারণে। (ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা; ফারাও : ১৭/৬/২০১৮)

    ৩. অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও উলামায়ে কেরাম একমত যে, রামেসেস দ্বিতীয় হচ্ছে মুসা (আ.)-এর সময়কালের ফেরাউন। এ ক্ষেত্রে অনেকগুলো তথ্য ও প্রমাণ্যতা রয়েছে যে, সে অন্যতম প্রথম ব্যক্তিদের একজন যে নিজেকে প্রভু দাবি করেছিল। পাতাহ ও আমুন উপাস্যের পাশে নিজের জন্য একটি ভাষ্কর্য নির্মাণ করেছিল। তার নিরাপত্তারক্ষী ও সৈন্য-সামন্তরা তার উপাসনা শুরু করেন। পরবর্তীতে সগ্র জাতি তাকে উপাসনা করতে শুরু করে।

    আরও পড়ুনঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু ১৬ অক্টোবর

    ফেরাউনের নাম নিয়ে ব্যাপক মতভেদের কারণে আসল ফেরাউন কে তা নিশ্চিত নয়। কেননা তার নাম কানতুম, আমালিক কিংবা আমলাক ইবনে লাজর ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নূহ এর বংশধারীগণের মধ্যে হতে হোক কিংবা ‘ইস্ফাহান’ এর আত্তার বা ইস্তাখারের অধিবাসী হোক কোনটাই নিশ্চিত নয়। কাজেই বিরোধমূলক নাম ওয়ালিদ মোছয়েব, কাবুস এবং কিবতী যেটাই হোক না কেন কোরআনে কেবল ‘ফেরাউন’ উল্লেখ করে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দিয়েছে।

    সুতরাং ফেরাউনদের নাম যাই হোক, তৎকালীন শাসকদের খেতাব ছিল ফেরাউন। ইতিহাসে এ সকল শাসকরা ফিরাউন নামে পরিচিতি লাভ করেছে। সর্বশেষ ফেরাউনের লাশ এখনো বিনা প্রক্রিয়া আল্লাহ তাআলা নির্দশন স্বরূপ অবিকল সংরক্ষণ করেছেন। যা মিসরের মিউজিয়ামে রয়েছে।

    spot_imgspot_img

    ফলো করুন-

    সম্পর্কিত বার্তা

    জনপ্রিয় বার্তা

    সর্বশেষ বার্তা