spot_img
মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
29 C
Bangladesh
মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
spot_img
আরও
    DinBartaCOVID19নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস
    spot_imgspot_img

    নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস

    নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস স্লোগান দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সরকারি সেবা পেতে বাধ্যতামুলক ভ্যাকসিন নেওয়ার শর্ত যুক্ত করতে সরকারকে সুপারিশ করেছে।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত মঙ্গলবার বলেছেন, ‘নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস’, অর্থাৎ টিকা না দিলে কোন ধরনের সরকারি সেবা মিলবে না।

    কিন্তু সারা দেশে এখন পর্যন্ত জনসংখ্যার মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে, এই সময় এ ধরণের ‘নো ভ্যাকসিন-নো সার্ভিস’-এর মত সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক বা নৈতিক – সেই প্রশ্ন এখন সবার।

    তবে স্বাস্থ্যবিভাগ যুক্তি দিচ্ছে যে, ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য মানুষের আগ্রহ বাড়াতে অথবা একটা চাপ তৈরি করতে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    কর্মকর্তারা বলেছেন, বেশ কিছুদিন ধরে ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ অনেক কমে গেছে বলে তারা তাদের টিকা কেন্দ্রগুলোর প্রাপ্ত পরিসংখ্যান দেখে বুঝতে পারছেন।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলছেন, ভ্যাকসিন ছাড়া সব ধরনের সরকারি সেবা যদি দেয়া না হয়, তাহলে মানুষের আগ্রহ আবার বাড়তে শুরু করবে।

    কিছু কিছু লোক যারা বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, তারাও ভ্যাকসিনের আওতার বাইরে রয়ে গেছে। হয়তো ইচ্ছে করেই তারা ভ্যাকসিন নেয়নি।

    “গ্রামাঞ্চলেও অনেকে ভ্যাকসিনের জন্য আসে নাই ভ্যাকসিন কেন্দ্রে। তাদেরকেই মূলত ভ্যাকসিনের আওতায় আনা আমাদের প্রধান টার্গেট” বলেন অধ্যাপক আলম।

    ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা

    কিন্তু সরকারি হিসাবেই দেখা যায়, ১কোটির বেশি মানুষ নিবন্ধন করার পরও তাদের ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে দিনের পর দিন, এস এম এস ও নির্দিষ্ট সময়ে আসতেছেনা।

    ১২ বছরের বেশি সব স্কুল শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেয়ার ক্ষেত্রেও নিবন্ধনের জটিলতা এবং প্রচুর ধীরগতিসহ নানা অভিযোগ উঠছে।

    এই সব পরিস্থিতিতে মানুষের যে আগ্রহ কম আছে সেই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তারা বলেছেন, এ পর্যন্ত মোট কত শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে-এই প্রশ্ন বিবেচনায় না নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ এমন সব বক্তব্য দিচ্ছে।

    সরকারি হিসাবে গরমিল

    তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেছেন, পরিসংখ্যান যা বলা হচ্ছে, তাতে ‘গন্ডগোল বা ঝামেলা’ আছে।

    তার বক্তব্য হচ্ছে, দেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার হিসাব করে ভ্যাকসিন দেয়ার বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গাইড লাইন অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকার।

    আরও পড়ুন

    এইডসে আক্রান্তদের জন্য কী ধরনের চিকিৎসা সুবিধা

    প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের চেয়ারম্যান নির্বাচিত

    “১৭ কোটি জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানে প্রায় ১২ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার টার্গেট করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা ৪৫ বা ৫০ শতাংশ মানুষকে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন দিয়েছি। এভাবে পরিসংখ্যান দেখতে হবে” বলে তিনি মন্তব্য করেন।

    কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ১৭ কোটি জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ হিসাব করা হলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৪ কোটি। বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে এসেছেন ভ্যাকসিন কার্যকর হতে ২ টা ডোজ প্রয়োজন।

    সরকারি হিসাবে এপর্যন্ত ২ ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছেন প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। অর্থাৎ, ২৮ শতাংশর কম মানুষ ২ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পেয়েছেন।

    তবে সরকার যদি একটি ডোজকে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনে করে, তখনও তাদের হিসাব অনুযায়ী টার্গেট জনসংখ্যার অর্ধেক সেবা নেবার অধিকার হারাবে।

    নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস শ্লোগান শুধু কাগজে কলমে

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা বলেছেন, মোট জনসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ মানুষকে টিকা দিয়ে নো ভ্যাকসিন নো সার্ভিস, শ্লোগান তোলা হলে সেটা শুধু মাত্র কাগজে কলমেই থেকে যাবে।

    তিনি আরও মনে করেন, এর আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধির মুখে সরকার থেকে নো মাস্ক-নো সার্ভিসের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেটাও কার্যকর করা যায়নি আজ পর্যন্ত।

    “মাস্কের বিষয়টা ব্যক্তির হাতে ছিল। তারপরও সেভাবে কার্যকর হয়নি।”

    “কিন্তু ভ্যাকসিশন নির্দিষ্ট কারও হাতে নেই। এটা সরকারের হাতে। যেখানে ভ্যাকসিন দেয়ার হার অনেক কম, সেখানে নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস এই বিষয়টা বলার জন্য বলা হচ্ছে” বলে মনে করেন অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা।

    এখন এই মুহুর্তে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত দেয়ার মোট ভ্যাকসিন রয়েছে কীনা-তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এখন দেশে ২ কোটি ডোজের বেশি ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে।

    spot_imgspot_img

    ফলো করুন-

    সম্পর্কিত বার্তা

    জনপ্রিয় বার্তা

    সর্বশেষ বার্তা