spot_img
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
22 C
Bangladesh
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
spot_img
আরও
    DinBartaধর্মইসলাম ক্রমবিকাশের সময় নারী চিকিৎসক
    spot_imgspot_img

    ইসলাম ক্রমবিকাশের সময় নারী চিকিৎসক

    ইসলামের ক্রমবিকাশের সময় যখন নারীরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে চিকিৎসক হিসেবে ভুমিকা রেখেছে, পশ্চিমের নারীরা তখন ঘরের কোনে বসে থাকতেন। মহানবীর সময় থেকেই মুসলিম নারীরা ব্যপকভাবে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন।

    এমনকি রাসুল (সা.)-এর যুগেও ৯ জন নারী চিকিৎসকের সন্ধান পাওয়া যায়। তাঁরা শল্যচিকিৎসা এবং ধাত্রীবিদ্যা সহ বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন।

    এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় চিকিৎসা বিদ্যায় নারীদের অংশ নেয়া শুরুই হয় মুসলমানদের হাতে।

    ইসলাম আবির্ভাবের প্রথমদিকেও মুসলিম নারীরা চিকিৎসাশাস্ত্রের চর্চা করেছেন এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে। আন্দালুসের আল-জাহরাভি মিডওয়াইফ দের উপরে নির্ভর করতেন যারা প্রসূতি ও নারী স্বাস্থ্যের চিকিৎসার সময় আল জাহারাভিকে সাহায্য করতেন। শেহাবুলদিন আল-সাইগের এর মেয়ে সেই সময়ে মিশরের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল মনসৌরি হাসপাতালে সিনিয়র চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন।

    নারী চিকিৎসকরা হাসপাতালে কাজ করার পাশাপাশি, তারা তাদের বাড়িতে রোগীদের দেখতে যেতেন। আল-তাব্বারী তার “তারীখ আল রসুলওয়া আল মুলুক” বইয়ে বলেছেন যে আবু আল-হাসান নামে একজন পুরুষ চিকিৎসকের কাছে একজন মহিলা রোগী তার কাঁধে সংক্রমিত ক্ষত নিয়ে তাকে দেখাতে এসেছিলেন এবং তিনি তাকে বলেছিলেন:

    “আমি একজন একজন চক্ষু চিকিৎসক কিন্তু আমাদের এইখানে একজন নারী চিকিৎসক আছেন যিনি আপনার চিকিৎসা করবেন।”

    ইবনে আল-হাজ্জ তার বই (আল-মাদখাল) এ বর্ণনা করেছেন যখন তিনি ১৩ ও ১৪ শতাব্দীর সময় কায়রোতে তখন মুসলিম নারীরা কীভাবে পরিবারগুলি মিডওয়াইফদের সেবা দিতো এবং মহিলাদের প্রসব করার ব্যবস্থা করেছিল এবং তাদের নবজাতক শিশুদের চিকিৎসা দিতেন।

    মুসলিম নারীরা ইসলাম আবির্ভাবের প্রথম থেকেই বিভিন্ন যুদ্ধে আহতদের সাহায্য করার জন্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। সেই সময়ে নারী চিকিৎকদের মুলত কাজ ছিলো যুদ্ধাহত-রোগীদের দেখাশোনা করা, ছোট অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি জটিল ট্রমা সার্জারি করা।

    মুসলিম নারীরা ইসলাম আবির্ভাবের প্রথম থেকেই বিভিন্ন যুদ্ধে আহত যোদ্ধাদের সাহায্য করতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন, এই ছবিটাতে সেটা তুলে ধরা হয়েছে।

    নারী চিকিৎসকেরা “হিজামা” (হিজামা আরবি শব্দ এর বাংলা অর্থ হল শিঙ্গা লাগানো, তখনকার সময় প্রচলিত চিকিৎসার আরবি নামকরণ হচ্ছে হিজামা)। চিকিৎসাও জানতেন। মাথাব্যথা শরীরব্যথার মত অসুস্থতা নিরাময়ে এই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়। নারী চিকিৎসকরা ক্ষতের পরিচর্যা করতেন, রক্তপাত বন্ধ করতেন, ড্রেসিং পরিবর্তন করতেন এবং হাতের তৈরি ক্রিম দিয়ে ক্ষত নিরাময় করতেন।

    নারীরাও ওষুধ তৈরিতেও ভুমিকা রাখতেন। আল-তাব্বারী বইয়ে বলা হয়েছিল যে নারীরা সঠিক এন্টিসেপটিক ক্রিম তৈরি করে সংক্রামিত ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করতেন। বানী ওউদের জয়নব চোখের রোগে চিকিৎসায় এবং ওষুধ তৈরিতে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। আল শিফা বিনতে আবদুল্লাহ যিনি হাতে তৈরি টপিকাল ক্রিম দিয়ে ত্বকের ক্ষতের চিকিৎসা করতেন, তাকেও হুসবাহ বা ওষুধের নিয়ন্ত্রনকারী সংস্থার প্রধান হিসেবে দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব নিযুক্ত করেছিলেন।

    রাসুল (সা.)-এর যুগে যে ৯ জন নারী চিকিৎসকের সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রুফায়দা আল আসলামিয়াহ।

    হিজরতের পর মদীনায় মহানবীর কাছে রুফায়দা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং কয়েকটি যুদ্ধে নবী (সাঃ) -এর সাথে চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বদর যুদ্ধেও আহত যোদ্ধাদের সুস্থ হতে সহায়তায় কাজ করেছিলেন। রুফায়দা তার চিকিৎসার অধিকাংশ জ্ঞান তার পিতা সাদ আল-আসলামির কাছে থেকে শিখেছিলেন । এছাড়াও আল-খান্দাকের যুদ্ধে, তিনি একটি মেডিকেল টেন্ট যা আধুনিক যুগে ব্যবহৃত সামরিক মোবাইল হাসপাতালের মতো নিয়ে সেনাবাহিনীর সাথে যাতায়াতের সময় আঘাতের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকতেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনিই প্রথম সামরিক মোবাইল ফিল্ড মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বে ছিলেন। মুসলিম চিকিৎসকেরাও রণাঙ্গনে প্রথম মেডিকেল টেন্ট ব্যবহার করেন।

    তিনি খাইবার যুদ্ধের আগে কিছু নারী সঙ্গীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও নার্সিং সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। এই নারী নার্সরা তাকে তার ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল সামরিক তাঁবু চালাতে এবং আহতদের দেখাশোনার জন্য দিনরাত সাহায্য করতেন।

    যুদ্ধে তাঁর ভূমিকা স্বীকৃতি দিয়ে যুদ্ধের সময় যেকোনো যোদ্ধার মতোই যুদ্ধের গনীমতের ঘানায়েম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুফায়দাকে দান করেছিলেন। রুফায়দার দুর্দান্ত ক্লিনিকাল দক্ষতার সাথে ছিলো নেতৃত্বের গুণাবলি। তিনি শুধু চিকিৎসা সেবা দেয়াই নয় অন্যান্য মেয়েদেরও নার্স হতে এবং স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ ও প্রশিক্ষিত করেছিলেন।

    রেফারেন্সঃ Muslim Female Physicians and Healthcare Providers in Islamic History; Sharif Kaf Al-Ghazal, Marium Husain; JBIMA; Vol 7, no3 April 2021, pp 23-30

    spot_imgspot_img

    ফলো করুন-

    সম্পর্কিত বার্তা

    জনপ্রিয় বার্তা

    সর্বশেষ বার্তা